প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৩, ২০২৬, ৭:৩৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৬, ৮:২৮ পি.এম
সব মানুষের সমান অধিকারে ‘মানবতার রাষ্ট্র’ গড়ার ডাক: ইনসানিয়াত বিপ্লবের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
মঈনউদ্দীন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষের সমান নিরাপত্তা, অধিকার এবং স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়ে একটি 'মানবতার রাষ্ট্র' গড়ার লক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ। বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াতের প্রবর্তিত 'মানবতার রাজনীতি'র আলোকে এই সুদীর্ঘ ইশতেহারটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
ইশতেহারে আধুনিক রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং মানুষের নিরাপত্তা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং অপরাধমুক্ত সামাজিক পরিবেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- সর্বজনীন রাষ্ট্র কাঠামো: রাষ্ট্র কোনো একক ধর্ম বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হবে না। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্র হবে সব মানুষের সমান মালিকানাধীন। জাতীয়তাবাদ বা উগ্রবাদের ঊর্ধ্বে উঠে 'অখণ্ড মানবিক ভ্রাতৃত্ব' প্রতিষ্ঠা করাই হবে রাষ্ট্রের মূল দর্শন।
- স্বচ্ছ নির্বাচন ও ভোটাধিকার: ভোট জালিয়াতি রোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। মোবাইল অ্যাপ ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ভোটারদের ভোটদান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
- ধর্মের মর্যাদা ও নিরাপত্তা: ধর্মের নামে উগ্রবাদ এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্মকে দলীয়করণের হাত থেকে মুক্ত রাখতে একক ধর্মের নামে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে, যাতে ধর্মের প্রকৃত মানবিক শিক্ষা ও স্বাধীনতা অটুট থাকে।
- জনবান্ধব অর্থনীতি ও জনকল্যাণ: আবাসিক গৃহ এবং ক্ষুদ্র কৃষিজমির কর ও খাজনা বিলোপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বাজার নিয়ন্ত্রণের কঠোর অঙ্গীকার করা হয়েছে।
- প্রবাসী ও নারী সুরক্ষা: প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে বিশেষ মর্যাদা এবং বিদেশে মৃত্যু হলে রাষ্ট্রীয় খরচে মরদেহ দেশে আনার দায়িত্ব নেবে সরকার। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ দমনে বিশেষ আদালত গঠন ও দ্রুততম সময়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
- অপরাধমুক্ত সমাজ ও পরিবেশ: থানা ও জেলখানায় সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ, মিথ্যা মামলা নির্মূল এবং চাঁদাবাজিমুক্ত বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। নদী রক্ষা, বনায়ন এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য উৎপাদনকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বিশ্বে হানাহানি ও বঞ্চনার মূল কারণ হলো উগ্রবাদ ও বস্তুবাদী সংকীর্ণতা। এই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে এবং মানুষের জন্মগত বিশ্বনাগরিকত্ব ও অধিকার ফিরিয়ে দিতে 'মানবতার রাজনীতি'ই একমাত্র বিকল্প। আসন্ন নির্বাচনে 'আপেল' মার্কায় ভোট দিয়ে একটি শান্তিময় ও বৈষম্যহীন বিশ্ব গড়ার লড়াইয়ে শামিল হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
Copyright © 2026 দৈনিক কালেরপত্র. All rights reserved.