স্টাফ রিপোর্টারঃ মোঃ আনিসুর রহমান
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার খলশী ইউনিয়নের বিষ্ণপুর এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে এবং চকমিরপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এতে নদীভাঙন, কৃষিজমির ক্ষয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালামের নেতৃত্বে ও প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় তার ভাগ্নে মো. রনি বিষ্ণপুর এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে এবং মো. নান্নু রামচন্দ্রপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই ড্রেজার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। প্রভাবশালী মহলের দাপটের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা ড্রেজার মেশিন চালিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদীর তলদেশ অস্বাভাবিকভাবে গভীর হয়ে যাচ্ছে। ফলে তীরবর্তী এলাকার বসতবাড়ি, রাস্তা ও ফসলি জমি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ড্রেজারের অনবরত শব্দে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুম থাকায় নদীভাঙনের শঙ্কা আরও বাড়লেও স্থানীয় প্রশাসনকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ড্রেজার ব্যবসায়ী মো. রনি ও মো. নান্নুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।
তবে যুবদল নেতা আব্দুস সালাম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাজনীতি করার কারণে অনেকেই আত্মীয় পরিচয় দেয়, কিন্তু সংশ্লিষ্ট ড্রেজার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার কোনো পারিবারিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই এবং অপরাধীদের তিনি প্রশ্রয় দেন না।
এ প্রসঙ্গে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন জানান, অবৈধ ড্রেজার পরিচালনা ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শিগগিরই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।