লালমনিরহাট প্রতিনিধি,
মোঃ জাহেদুল ইসলাম রতন:
লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি কমলেও বেড়েছে নদীর ভাঙন। চলতি বন্যায় ইতিমধ্যে জেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রায় দু’শতাধিক বসতভিটা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে রয়েছে বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, বসতভিটা, আবাদি জমিসহ নানা স্থাপনা। ভাঙ্গনের ফলে প্রতি বছর সংকুচিত হয়ে আসছে উপজেলার মানচিত্র।
জানা গেছে, ক’দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ীর ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করে। চর এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। ভেসে গেছে পুকুরে মাছ। পানি কমে যাওয়ায় রাস্তা ঘাট জেগে উঠে, অনেক বাড়ি ঘর থেকে নেমে যায় পানি।
চলতি বন্যায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, চর সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী। কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা। সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কালমাটি, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের পরিবারগুলো পানিবন্দী হয়ে পড়েন। তিস্তার পানি বাড়া ও কমার সাথে সাথে ওইসব এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙ্গন।
এ ভাঙ্গনের শিকার হাতিবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না, ডাউয়া বাড়ি, পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের দু’শতাধিক পরিবারের আশ্রয়স্থল বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার বাঁধের রাস্তায় ও সরকারী জমি এবং স্কুলের মাঠে আশ্রায় নিয়েছে। এছাড়াও লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি কাজের অংশ হিসেবে হাতীবান্ধার গড্ডিমারীর তালেব মোড়ের ওয়াপদা বাঁধ, বাইপাস সড়ক, স্পার বাঁধ ও চন্ডিমারী বাঁধ রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলছে।
সিন্দর্না গ্রামের আফিয়ার রহমান বলেন, চোখের সামনে বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। সিন্দুর্না ইউনিয়নের এক ও দুই নং ওয়ার্ড প্রায় বিলিনের পথে। আমরা রিলিফ বা ত্রাণ চাই না, তিস্তার বাঁধ চাই। দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের দাবী করেন।
হাতীবান্ধা উপজেলায় ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ড নদী তীরবর্তী। সব এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েক দফা পানি বৃদ্ধির ফলে ৭০টি বাড়ি বিলীন হয়েছে।
পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুল আলম সাদাত বলেন, আমার ইউনিয়নে আংশিকসহ ৭টি ওয়ার্ডের প্রায় ১৫ শত পরিবারের মধ্যে প্রায় ৭০টি বসত ভিটে নদীগর্ভে বিলীন হয়। অনেকই ৫/৭ বার বাড়ি সরিয়ে নিয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ভাঙন ঝুঁকিতে হাতীবান্ধার গড্ডিমারীর তালেব মোড়ের ওয়াপদা বাঁধ, বাইপাস সড়ক, জরুরি কাজের অংশ হিসেবে স্পার বাঁধ ও চন্ডিমারী বাঁধ রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধে চেষ্টা করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসাদের। তিস্তার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ রক্ষায় কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছি।
মন্তব্য করুন