মঈনউদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:
কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপনের মধ্য দিয়ে নয়, বরং ধর্মের নামে অধর্ম, উগ্রবাদ এবং মব সন্ত্রাসের হাত থেকে দেশ ও সংস্কৃতি রক্ষার দৃপ্ত শপথে নীলফামারীর সৈয়দপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সৈয়দপুরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন আধা-সামরিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেয়। দীর্ঘ বিরতির পর কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে ফিরে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
স্বাধীনতা দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সাধারণ মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে একাত্তরের ঘাতক-দালাল ও উগ্রবাদী অপশক্তিকে চিরতরে উৎখাতের আহ্বান। উপস্থিত সুধীজন ও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা মব জাস্টিস বা গণ-সন্ত্রাসের মাধ্যমে সমাজে ত্রাস সৃষ্টি করছে, তাদের নির্মূল করা না গেলে রাষ্ট্র ও সংস্কৃতি ধ্বংসের মুখে পড়বে। একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে বস্তুগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবসত্তাকে ভালোবাসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন যে, বাংলাদেশ কোনো একক ধর্ম, জাতি বা গোষ্ঠীর নয়; বরং এই রাষ্ট্র সবার। স্রষ্টা ও তাঁর রাসূল প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ বিশ্বাস, আদর্শ ও পথ নিয়ে চলার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। যখনই রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কুক্ষিগত হয়, তখনই সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা, সম্মান ও নিরাপত্তা লুণ্ঠিত হয়। তাই উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদমুক্ত সমাজ গড়তে বৈচিত্র্য রক্ষা করা অপরিহার্য।
প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, ধর্মের নামে উগ্রবাদ বা সন্ত্রাসবাদ আসলে স্রষ্টা ও সৃষ্টির বিরুদ্ধে এক নিকৃষ্ট অপরাধ। ওয়াহাবি বা মওদুদিবাদের মতো ভ্রান্ত মতাদর্শের ধোঁকা ও স্বৈরাচারী মানসিকতা থেকে দ্বীন, দেশ এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রের সংস্কৃতি বেঁচে থাকলেই দেশ বাঁচবে—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করেই এবারের ২৬শে মার্চ পালিত হয়েছে এক নতুন সংকল্পে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই উগ্রবাদ বিরোধী লড়াইয়ে সামিল করা এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন