আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রের একাধিক স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পাথর বৃষ্টির ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমার ফালতলায় রামনবমীর মিছিল চলাকালীন ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মসজিদ থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে উচ্চস্বরে গান-বাজনা সহ মিছিলটি পৌঁছালে বিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। মুসল্লিরা নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মিছিলটি থামানোর অনুরোধ করলে একদল উগ্র জনতা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা বেশ কিছু দোকানে অগ্নিসংযোগ করে এবং বসতবাড়ির ছাদে উঠে গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই তাণ্ডবে আব্দুল শেখ নামে এক পৌরকর্মী লোহার রডের আঘাতে গুরুতর আহত হন এবং তার মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর উপস্থিতিতেই দীর্ঘ সময় ধরে এই সহিংসতা চলেছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন দাবি করেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্মীয় মেরুকরণের উদ্দেশ্যে এই হামলা পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগরে রামনবমীর মিছিলের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত ২৭ মার্চের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গেরুয়া স্কার্ফ পরিহিত এক যুবক একটি মসজিদের দিকে লক্ষ্য করে প্রতীকীভাবে তীর নিক্ষেপ করছেন এবং উপস্থিত জনতা তাতে উল্লাস প্রকাশ করছে। মসজিদের খুব কাছ দিয়ে মিছিলের রুট নির্ধারণ এবং এই ধরনের উস্কানিমূলক আচরণের ঘটনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা কয়েকজনকে শনাক্ত করলেও পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।
আহিল্যানগরের শ্রীরামপুর শহরেও রামনবমীর মিছিল একটি দরগা সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পাথর বৃষ্টির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমানে সেখানে রিজার্ভ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এক ধর্মীয় নেতাসহ ১২ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
উত্তেজনাপূর্ণ এলাকাগুলোতে শান্তি বজায় রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা গুজব ছড়াবে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি বিজিবি ও পুলিশের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।
মন্তব্য করুন