নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভোটের দাবিকে উপেক্ষা করা হলে দেশ আবারও সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সোমবার (৩০ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ জানান, দেশের জনগণের একটি বৃহৎ অংশ বর্তমানে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তার মতে, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ এই দাবির সঙ্গে একাত্ম। এই গণ-আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাহ্য করা হলে ভবিষ্যতে এর জন্য রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের বিরোধিতা করা মানে পরোক্ষভাবে অতীতের দমন-পীড়নের পরিবেশকেই সমর্থন করা। একইসঙ্গে তিনি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সংবিধানের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই সংসদ সদস্য বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান অনেক ক্ষেত্রে জনগণকে প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, অতীতে রাজনৈতিক মামলা, দীর্ঘ সময় কারাভোগ এবং বারবার গ্রেপ্তারের শিকার হতে হয়েছে তাকে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করতে বিগত সময়ে মামলা ও নিপীড়নকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সংবিধান যদি আক্ষরিক অর্থে সবাইকে সুরক্ষা দিতে পারতো বা সবাইকে নিয়মের মধ্যে রাখতে পারতো, তবে বর্তমান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক ব্যক্তির অবস্থান আজ ভিন্ন হতো। প্রচলিত ব্যবস্থার অকার্যকারিতার কারণেই আজ দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন এসেছে।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। অতীতে অনেক নেতা এই সংবিধান পরিবর্তনের কথা বললেও বর্তমানে তাদের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। জনগণের কাছে এই দ্বিমুখী অবস্থানের ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ব্যক্তি বা দল নয় বরং দেশ ও জনস্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
মন্তব্য করুন