নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষি খাতে স্বচ্ছতা আনতে ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি—এই তিন শ্রেণির কৃষকরা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, ঋণ এবং আধুনিক কৃষি সরঞ্জামসহ ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১১টি উপজেলার ২০ হাজার কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই ডিজিটাল কার্ডটি কৃষকদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। কার্ডধারী কৃষকরা প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা বা উপকরণ ভর্তুকি পাবেন। এছাড়া কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সংগ্রহ এবং সেচ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং শস্য বিমার সুবিধাও থাকছে এই কার্ডের আওতায়। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উন্নত চাষাবাদের প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং সরাসরি উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন কৃষকরা।
স্মার্ট কৃষি কার্ড পাওয়ার জন্য কৃষকদের নির্দিষ্ট তথ্যসহ আবেদন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে:
সরকার মূলত স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এই কার্ড প্রদান করবে। আগ্রহী কৃষকদের প্রথমে নিজ ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার (SAAO) সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ফরম পূরণ বা অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারীর তথ্য সরেজমিনে যাচাই শেষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করে স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই স্মার্ট কৃষক কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। কার্ড পাওয়ার জন্য কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন না করতে কৃষকদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের জীবনমান উন্নত হবে বলে আশা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন