নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে একজন সংবাদকর্মীর সঙ্গে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ উঠেছে। জনসম্মুখে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় তিনি ওই সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং নিজেকে ‘সাধারণ কোনো মানুষ নন’ বলে দাবি করেন। গত রোববার দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌর শহরের সাহা ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী জুয়েল রানা দেশ টিভির জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে জেলা শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল। দুপুরের দিকে শহরের কলেজ মোড় এলাকায় অবস্থিত সাহা ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে যান এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম। এসময় সাংবাদিক জুয়েল রানা নিজের পরিচয় দিয়ে গ্রাহকপ্রতি তেলের বরাদ্দের পরিমাণ জানতে চাইলে এসিল্যান্ডকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন।
সাংবাদিক জুয়েল রানার অভিযোগ, ভাই সম্বোধন শুনেই তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন এসিল্যান্ড। তিনি জনসম্মুখে কৈফিয়ত তলব করেন যে, তাকে কেন ভাই বলা হলো। এসিল্যান্ডের ভাষ্য ছিল, সবার সামনে এভাবে ভাই ডাকলে সাধারণ মানুষ তাকেও ‘সাধারণ মানুষ’ ভাববে এবং স্বজনপ্রীতির সন্দেহ করবে। এ সময় ওই সাংবাদিককে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তিনি অত্যন্ত রূঢ় আচরণ করেন।
এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক জুয়েল রানা বলেন, প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে সাধারণ মানুষকে সেবা প্রদান এবং সম্বোধনের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন ‘প্রভুত্বসুলভ’ আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। কেবল ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ বলায় একজন সংবাদকর্মীর সঙ্গে এমন আচরণ কাম্য নয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি তাকে ‘স্যার’ বলতে বলেননি। বরং সবার সামনে ‘ভাই’ বলায় উপস্থিত অন্যদের ওপর এর প্রভাব পড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগেও সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গোপনে সরকারি গাছ নিলাম করার অভিযোগ উঠেছিল এই এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। নতুন করে সংবাদকর্মীর সঙ্গে এই আচরণের ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন