নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত ৩৬ সদস্যের চূড়ান্ত তালিকায় আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রী ও সাবেক সরকারি আইনজীবীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
বিএনপির ঘোষিত তালিকার ২০ নম্বর অবস্থানে রয়েছেন সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেত্রীর নাম বিএনপির চূড়ান্ত তালিকায় আসায় দলের ভেতরে-বাইরে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।
একইভাবে তালিকার ৩৪ নম্বর অবস্থানে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা। তার রাজনৈতিক অতীত নিয়ে জানা যায়, তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে তিনি নোটারি পাবলিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকার পরও কেন তাদের বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হলো, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে। এটি কি বিএনপির কোনো বিশেষ রাজনৈতিক কৌশল, নাকি প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার কোনো ত্রুটি—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি মনোনীত ওই দুই নেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা দেশের রাজনীতিতে বিরল। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে এটি কোনো নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে যেমন সংশয় আছে, তেমনি দলের ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নও উঠছে। সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়া আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন