স্টাফ রিপোর্টার: নান্নু মিয়া
সাভারের বিতর্কিত সাবরেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক টেলিভিশন সাংবাদিককে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে সাভার সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয় এলাকায় এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দেওয়ান ইমন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘দেশ টিভি’র সাভার প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এই ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে দেওয়ান ইমনসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনের প্রচারণা সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান। সেখানে সাবরেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের পক্ষে কাজ করা অনুমোদনহীন কিছু অনলাইন পোর্টালের বহিরাগত কয়েক ব্যক্তির উপস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তাদের পরিচয় জানতে চান। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সাবরেজিস্ট্রারের মদদপুষ্ট ৫০-৬০ জনের একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী সংবাদকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা দেওয়ান ইমনকে মারধর করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। উপস্থিত জনতা ও অন্য সংবাদকর্মীদের বাধার মুখে অপহরণ চেষ্টা ব্যর্থ হলেও সন্ত্রাসীদের হামলায় দেওয়ান ইমন গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক দেওয়ান ইমন জানান, সম্প্রতি সাবরেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির তথ্য প্রমাণসহ দেশ টিভিতে সংবাদ প্রচার করা হয়। এরপর থেকেই ওই কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্নভাবে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন এবং কর্মস্থলে মিথ্যা অভিযোগ পাঠিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করেন। আজকের এই হামলা ও অপহরণ চেষ্টা সেই প্রতিহিংসারই ধারাবাহিকতা। তিনি অবিলম্বে এই ঘটনায় দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত সাবরেজিস্ট্রার জাকির হোসেন নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের সাবেক নেতা এবং তিনি নিজ কার্যালয়ে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করে রেখেছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাভারের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে তার অপসারণ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবরেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে সাবরেজিস্ট্রারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেছেন।
মন্তব্য করুন