স্টাফ রিপোর্টার | নান্নু মিয়া
সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিসে আসেন। বাকি দিনগুলোতে কর্মস্থলে তার দেখা না মিললেও হাজিরা খাতায় রয়েছে শতভাগ স্বাক্ষর। শুধু তা-ই নয়, রসিদ ছাড়াই চৌকিদারি ট্যাক্সের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১৬ নম্বর নান্নার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা এমন সব বিস্ফোরক অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচিবের এই লাগামহীন স্বেচ্ছাচারিতায় নান্নার ইউনিয়নের পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, আর চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউপি সচিব শারমিন আক্তার সপ্তাহের প্রায় পুরো সময়ই অনুপস্থিত থাকেন। অথচ সরকারি হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করে তিনি নিজেকে ‘উপস্থিত’ দেখাচ্ছেন, যা স্পষ্ট জালিয়াতি। একজন সচিবের এমন দায়িত্বহীনতার কারণে নান্নার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার আজ জিম্মি। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিকত্ব সনদসহ বিভিন্ন জরুরি ও আইনি কাগজপত্র তুলতে এসে মানুষ দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরেও কাউকেই পাচ্ছেন না। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা প্রতিদিন খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
নিয়মিত অফিস না করলেও কর আদায়ের নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটতে কোনো খামতি রাখছেন না এই সচিব। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০০, ৭০০, ১,০০০ এমনকি ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত চৌকিদারি ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোনো প্রকার বৈধ রসিদ ছাড়া এই অর্থ কোন সরকারি বিধিমালায় নেওয়া হচ্ছে? এবং অতিরিক্ত আদায়ের এই বিপুল পরিমাণ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে কার পকেটে যাচ্ছে?
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এবং সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী—জনগণকে নিয়মিত সেবা দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা যেকোনো সরকারি কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলক। আইনজ্ঞদের মতে, হাজিরা সংক্রান্ত সরকারি নথিতে ভুল তথ্য দেওয়া এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে আর্থিক লেনদেন করা কেবল চাকরি বিধিমালাই লঙ্ঘন করে না, বরং এটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
অফিসে অনুপস্থিতি এবং আর্থিক অনিয়মের এই গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সচিব শারমিন আক্তার কোনো সুস্পষ্ট বা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। এলাকাবাসী জানান, এই সচিবের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে অতীতেও একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আজ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে অভিযুক্ত সচিব দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
নান্নার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে অবিলম্বে এই অনিয়মের একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা (অডিট) এবং অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন